অনলাইন রিপোর্টার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ
(জকসু) নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। সকাল নয়টার পরেই উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হয়ে তারা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ছাত্রছাত্রীরা নির্বাচনের স্থগিত ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল
করিম এক জরুরি সিন্ডিকেট
সভায় জকসু নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। সিন্ডিকেট জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে তারা নির্বাচনের স্থগিতকরণে সম্মত হয়েছেন। তবে পরবর্তীতে কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কোনো
সময়সূচি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নির্বাচনের দিন পূর্বেই তাদের ভোটগ্রহণ শুরুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ
শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা উপাচার্য ভবন ঘেরাও করে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা
করছেন। তারা দাবি করছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতির শোকজনিত পরিস্থিতি হলেও ভোটগ্রহণ স্থগিত করা শিক্ষার্থীদের অধিকার লঙ্ঘন করছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, নির্বাচন না হওয়ার কারণে
ছাত্রসমাজে নেতৃত্বের সুযোগ সীমিত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
উপাচার্য ড. রেজাউল করিম
সাংবাদিকদের জানান, "সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেয়া
হয়েছে। তবে নতুন নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে পরে
সিদ্ধান্ত জানানো হবে।"
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানারে তাদের দাবী তুলে ধরছেন। তারা বলেন, "আমরা নিরপেক্ষ ও সময়মতো নির্বাচন
চাই। শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার ও নেতৃত্ব নির্বাচনের
অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।" কিছু শিক্ষার্থী কাঁদছেন, কেউ আবার কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে শ্লোগান দিতে থাকছেন।
এসময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী
সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, তবে ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন তাদের দাবি বিবেচনা করে নতুন ভোটের তারিখ দ্রুত ঘোষণা করবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভ শুধু
ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। তারা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা করা প্রয়োজন।