রফিকুল ইসলাম রাজু
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর দুপুর ৩টায় দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক। জানাজায় অংশ নেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি এবং লাখো সাধারণ মানুষ।
জানাজার সময় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দিয়ে মানুষের ঢল নামতে থাকে জানাজাস্থলের দিকে। কেউ হেঁটে, কেউ গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে এসে শেষ বিদায়ে শরিক হন। পুরো এলাকা এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালো ব্যাজ পরে, দলীয় ও জাতীয় পতাকা হাতে হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশ নেন। অনেককে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়। জানাজার আগে ও পরে উপস্থিত মুসল্লিরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশের সড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। জানাজা চলাকালে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হয়।
এর আগে সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে নেওয়া হয়। পরে তার মরদেহ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মায়ের কফিনের পাশে বসে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান। ওই সময় বাসভবনে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর মরদেহবাহী গাড়িবহর গুলশান থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওয়ানা হয়।
দুপুরের কিছু সময় আগে মরদেহবাহী গাড়িটি জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে জানাজার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাদ জোহর জানাজার নামাজ শুরু হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কবরস্থানে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করা হয় এবং আজকের এই জানাজায় তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আকাশজমিন / আরআর