ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

দেশে এমন জানাজা আগে কেউ দেখেনি


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৪৪ পিএম

দেশের ইতিহাসে এমন জানাজা আগে কেউ দেখেনি—এমনই অভিমত দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় মানুষের ঢল দেখে ‘জনসমুদ্র’ শব্দটিও যেন তার অর্থ হারিয়ে ফেলে। যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত কান্নাজড়িত দোয়ার ধ্বনিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে এই জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে। দল-মত নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে, রাজনীতির ‘আপসহীন নেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে কত গভীর জায়গা করে নিয়েছিলেন। অনেকেই একবাক্যে বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন জানাজা এর আগে আর দেখা যায়নি।

বুধবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরু হওয়ার আগেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জানাজাস্থল পূর্ণ হয়ে গেলে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে উত্তরে জাহাঙ্গীর গেট, পশ্চিমে মিরপুর রোড এবং পূর্বে ফার্মগেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও মগবাজার পর্যন্ত। মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছেছে, মানুষ ততদূর রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। কারও চোখে জল, কেউ নীরবে হাত তুলে দোয়া করেন।

এর আগে শীত উপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাত থেকেই মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ, দলীয় কার্যালয় এবং এভারকেয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন। বুধবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় রূপ নেয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

জানাজায় অংশ নিতে আসা পুরান ঢাকার সত্তরোর্ধ্ব ব্যবসায়ী হাজী আবদুল লতিফ বলেন, ‘১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজা দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, বাংলাদেশে আর হয়তো এমন দৃশ্য দেখব না। আজ ৪৪ বছর পর তাঁর স্ত্রীর জানাজায় এসে মনে হচ্ছে ইতিহাস আবার ফিরে এসেছে। এমন ভালোবাসা জোর করে আদায় করা যায় না, এটা আল্লাহ প্রদত্ত।’

শুধু দলীয় নেতাকর্মী নন, জানাজায় অংশ নেন সাধারণ চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রিকশাচালকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। ভিড়ের চাপে সংসদ ভবনের আশপাশের গাছ, ফুটপাত এমনকি নিকটবর্তী ভবনের ছাদেও মানুষ অবস্থান নেন। জানাজার ঠিক আগমুহূর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের কান্নাবিজড়িত বক্তব্য এবং তারেক রহমানের দোয়া চাওয়ার মুহূর্তে পুরো এলাকা পিনপতন নীরবতায় স্তব্ধ হয়ে যায়।

বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সৌদি আরবসহ ঢাকাস্থ ৩২টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধি জানাজায় অংশ নেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের স্পিকারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

জানাজায় নারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। মূল জানাজাস্থলে সীমিত প্রবেশাধিকার থাকলেও নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে শেষ বিদায় জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। দীর্ঘ রোগভোগ, কারাবাস ও সংগ্রামের পর এই বিদায় প্রমাণ করেছে—ক্ষমতার বাইরে থেকেও একজন নেতা গণমানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকতে পারেন।

আকাশজমিন/ আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর