অনলাইন রিপোর্টার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। শোক ও শ্রদ্ধায় ঘেরা এই দাফন অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এই ‘আপসহীন নেত্রী’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু সময় আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ লাখ লাখ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মানুষের ঢলে পুরো এলাকা জনস্রোতে পরিণত হয়। কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে মানুষ তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। জানাজার সময় শোকাবহ নীরবতায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে ওঠে।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান এবং চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। তবে গত ২৩ নভেম্বর আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে প্রায় ৪৩ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালের কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নিজের নাম লেখান।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় এক গভীর ব্যক্তিগত শোক থেকে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার স্বামী জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর বিএনপি সংকটে পড়ে। সেই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি দলের হাল ধরেন। চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দৃঢ়তা ও ধৈর্যের সঙ্গে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়াকে কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলতে দেখা যায়নি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেছিলেন, তিনি কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে রাজনীতি করেন না। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের মধ্য দিয়ে আজ স্বামীর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এই প্রভাবশালী নেত্রী।
আকাশজমিন / আরআর