একজন আদর্শ পিতার মতো দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। পরে নিজ হাতে তাদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন। রাতে কী খেয়েছে জানতে চাইলে ঝুমুর ও শাহীন জানায়, টাকার অভাবে সেদিন তারা কিছুই খেতে পারেনি। বিষয়টি শুনে মানবিক ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের রাতের খাবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
শুধু এই দুই পথশিশুই নয়, নগরীর মহসীন কলেজ এলাকায় ফুটপাতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ এবং তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিনের দিকেও নজর যায় সারাদেশে ‘আউট অব দ্য বক্স’ কাজের জন্য আলোচিত এই জেলা প্রশাসকের। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে আসা এই বাবা-মেয়ের আশ্রয় বলতে ফুটপাতে পাতা একটি পাতলা ও পুরোনো কম্বল।
ইয়াসমিনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক তার বাবার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নোট করেন এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসতে অনুরোধ জানান।
বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কথা হলে আব্দুল মজিদ জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন না। মহসীন কলেজের সামনে বসে ভিক্ষা করে যে অর্থ পান, তা দিয়েই মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিনযাপন করেন। প্রতিদিন ৫০ টাকায় আলুভর্তা, ডাল ও ভাত কিনে খেতে হয়। মেয়ের মাছ বা মাংস খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। কোনো কোনো দিন কেউ বেশি সাহায্য করলে মেয়ের জন্য একটু ভালো খাবার কিনে দেন।
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বসবাসরত এই বাবা-মেয়ের ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন জেলা প্রশাসক। তিনি আব্দুল মজিদকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং আগামী বুধবার অফিসে আসার অনুরোধ জানান।
শীতের এই দুঃসময়ে মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬০০টি কম্বল বিতরণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার ও চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী এলাকা এবং জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকা।
জেলা প্রশাসক নিজে ঘুরে ঘুরে অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বসতবাড়িহীন ভাসমান মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। শীতার্ত মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সরাসরি উপস্থিতি এনে দেয় স্বস্তি, আস্থা ও আশার বার্তা। তিনি বলেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। শীতের রাতে চট্টগ্রামের পথে পথে এই মানবিক উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে—প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক নয়, মানবিকতাও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।