বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবের রঙিন আয়োজন না থাকলেও নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার খুদে শিক্ষার্থীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে সারাদেশের মতো কোটালীপাড়াতেও আনুষ্ঠানিক বই উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে উৎসব না থাকলেও শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ না থাকলেও শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল নতুন বই পাওয়ার আনন্দ। অনেক শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে।
উপজেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থী বছরের প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ সেট বই পেয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে বই সরবরাহে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকায় কেবল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই সব বিষয়ের বই হাতে পেয়েছে। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আংশিক বই পেলেও কিছু বিষয়ের বই এখনো বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি।
তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্তসহ শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বই বিতরণকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন অতিথিরা এবং নতুন শিক্ষাবর্ষে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন।
আকাশজমিন / আরআর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে এ বছর উপজেলার কোথাও আনুষ্ঠানিক বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য বছরের প্রথম দিনেই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হচ্ছি, যেন কোনো শিক্ষার্থী বই না পেয়ে পিছিয়ে না পড়ে।”
বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, ঝকঝকে পাতার রং এবং নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রত্যাশা তাদের মুখে ফুটে উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা খুব দ্রুত পড়াশোনা শুরু করতে চায়। তবে মাধ্যমিক স্তরের সব বিষয়ের বই একসঙ্গে না পাওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী হতাশাও প্রকাশ করেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত জানান, কোটালীপাড়া উপজেলায় বর্তমানে ১৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫৯টি বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৩ হাজার ১১৮ জন। চাহিদা অনুযায়ী সমপরিমাণ পাঠ্যবই ইতোমধ্যে উপজেলায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীই সম্পূর্ণ সেট বই পেয়েছে।
তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া জান্নাত রাইফা ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিনা নূর তুষ্টি জানায়, নতুন বই পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত। তারা বলেছে, নতুন বই দেখে খুব ভালো লাগছে এবং শিক্ষকরা যা পড়াতে বলবেন তা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক অধিকারী বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বই এসেছে। যারা আজ উপস্থিত ছিল, তাদের সবাইকে বই দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার বিদ্যালয়ে এসে তাদের বই সংগ্রহ করবে।”
নতুন বই পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে উৎসাহিত হয়।
অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের বই বিতরণ প্রসঙ্গে কমলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিসুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ের বই পেয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৬টি, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৫টি এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৩টি বিষয়ের বই হাতে পেয়েছে। বাকি বইগুলো আসলে দ্রুত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জসীম উদ্দীন বলেন, নবম শ্রেণির সব বই ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছেছে। অন্যান্য শ্রেণির কিছু বিষয়ের বই এখনো আসেনি। আশা করছি খুব দ্রুতই বইগুলো উপজেলায় পৌঁছাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে বিতরণ করা হবে।
সার্বিকভাবে উৎসব না থাকলেও কোটালীপাড়ায় বই বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দ এবং অভিভাবকদের সন্তোষ—দুটিই ছিল চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত বাকি বইগুলো পৌঁছালে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব শিক্ষার্থী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারবে।