রংপুর সংবাদদাতা
রংপুর-৩ (সদর) আসনের জন্য আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের দাখিল করেছেন সম্পদ বিবরণী, যেখানে তার নগদ অর্থ ও সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রার্থীর পাঁচটি ব্যাংকে মোট ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা নগদ রয়েছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের সম্পদ কিছুটা কমে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা হয়েছে। এছাড়া, জিএম কাদের জামাই অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ ও আত্মীয় মমতাজ উদ্দিনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন যা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
অধিকাংশ দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় তার নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার নগদ ছিল ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৩ টাকা, দ্বাদশ নির্বাচনে ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, জিএম কাদের নিজেকে রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এবং স্ত্রীর পেশা সংগীত শিল্পী ও ব্যবসা হিসেবে দেখিয়েছেন। কৃষি জমি না থাকলেও তার ও স্ত্রীর নামে লালমনিরহাটে টিনশেড আধা পাকা বাড়ি এবং ঢাকার উত্তরায় পাঁচ তলা বিশিষ্ট বাড়ি আছে, যেগুলোর বাজার মূল্য দুই কোটি টাকারও বেশি।
জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০২২ সালের একটি মামলা, এবং বাকি ১১টির মধ্যে দুটি হত্যা মামলা এবং ৯টি হত্যাচেষ্টা মামলা, যা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দায়ের করা হয়েছে।
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, গাড়ি দুটি ব্যবহার করছেন যার মূল্য ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া, বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক জামানত থেকে নিজের এক লাখ ৯০ হাজার ও স্ত্রীর ৭৯ হাজার ৭৪১ টাকা, এবং স্ত্রীর ব্যবসা থেকে ছয় লাখ টাকা আয় দেখানো হয়েছে।
প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা, আর স্ত্রীর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৭২ লাখ টাকা।
জি এম কাদের আগে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে, এবং ২০০১ ও ২০২৪ সালে নির্বাচিত হয়েছেন। বড় ভাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন।
সম্পদ বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে তার অর্থনৈতিক অবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া প্রার্থী ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব, আয়ের উৎস এবং দায়-দেনার তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর