অনলাইন রিপোর্টার
জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত অজ্ঞাত ১১৪ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট। শনাক্তকৃত শহীদরা হলেন ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম (৫২), মাহিম (২৫), সোহেল রানা, আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।
এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন করে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
সিআইডি জানিয়েছে, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, এই পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবারের মধ্যে থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে আট জন অজ্ঞাত নিহতের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
ফরেনসিক কার্যক্রম চলাকালীন প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শুধু মৃত ব্যক্তির পরিচয়ই নয়, তাদের পরিবারের সঙ্গে মিল রেখে যথাযথ তথ্যও যাচাই করা হয়। এ ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে এমন সংঘটিত ঘটনা এবং অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ শনাক্তকরণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের শনাক্তকরণের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ন্যায় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে নানা এলাকায় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় ১১৪ জনের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পরিচয় অজ্ঞাত থাকায় পরিবার এবং স্বজনরা ন্যায় ও শোক সমাধানের অপেক্ষায় ছিলেন। সিআইডির এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য স্বস্তি ও সান্ত্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিআইডি আশা করছে, বাকি মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজও শিগগির সম্পন্ন হবে এবং নিহতদের পরিবারদের কাছে তাদের প্রিয়জনদের মর্যাদা সহকারে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
আকাশজমিন / আরআর