ফেনী সংবাদদাতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৩৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১২টি বাতিল ও একটি স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর পাওয়া যাওয়ায় সেটি বাতিল করা হয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর কম থাকা, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা, আয়কর রিটার্ন ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের কাগজপত্র জমা না দেওয়া, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং চলমান ঠিকাদারি প্রকল্প থাকা।
যাচাই-বাছাই শেষে দেখা যায়, ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ছয় জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এতে করে জেলায় কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে থাকছেন না।
ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ছয় জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, তার ইন্তেকালের কারণে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে মনোনয়নপত্রটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ফেনী-১ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নাজমুল আলম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া। মোহাম্মদ নাজমুল আলম আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায়, মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করায় এবং নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, জামায়াতে ইসলামের এস এম কামাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) মোতাহের হোসেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গেলাম কিবরিয়া, খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঁইয়া এবং মুসলিম লীগের মাহাবুব মোর্শেদ মজুমদার।
ফেনী-২ (সদর) আসনে ১৪টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে পাঁচটি বাতিল এবং নয়টি বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এয়াকুব নবী ভূঁইয়া, এস এম হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল। তাদের মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি পাওয়া যায়।
এ ছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী তাহেরুল ইসলাম এবং আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ফেনী-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবদীন ভিপি জয়নাল, আমার বাংলাদেশ পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মঞ্জু, জেএসডির শামসুদ্দিন মজুমদার, বাসদের (মার্ক্সবাদী) জসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঁইয়া, খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, খেলাফত মজলিসের মোস্তাফিজুর রহমান এবং আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার।
ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে ১১টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে চারটি বাতিল এবং সাতটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদের মনোনয়নপত্রে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর পাওয়ায় সেটি বাতিল করা হয়। তিনি যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
এ ছাড়া ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহবুবুল হক, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাসান আহমদের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতে ইসলামের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আবু নাসের, জেএসডির আবদুল মালেক এবং খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান পাটোয়ারী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের ফেনীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন। ফেনীর তিনটি আসনে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।
যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, তিনটি আসনে মোট ১২টি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একটি স্থগিত করা হয়েছে। বৈধ মনোনয়নপত্র রয়েছে ২২টি। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর