সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 165
উল্লাপাড়া উপজেলার ঘোষগাতি এলাকার একটি শ্মশানের নামকরণকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আগে শ্মশানটির নাম ছিল ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’। তবে গত বছর ৫ আগস্টের পর শ্মশানটি ঘোষগাতি এলাকায় হওয়ায় স্থানীয়রা নতুন করে নাম পরিবর্তন করে ‘ঘোষগাতি মহাশ্মশান’। এই নাম পরিবর্তন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে মিনা বনিক মারা যান। মৃত্যুর পর সৎকারের বিষয়টি জানাতে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাইকিংয়ের সময় সৎকারের স্থান ‘ঘোষগাতি মহাশ্মশান’ না বলে ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’ উল্লেখ করা হয়।
পরদিন সোমবার সকালে সৎকারের প্রস্তুতির জন্য স্বজনেরা ঘোষগাতি মহাশ্মশানের চাবি দাবি করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাবলু ভৌমিক চাবি দিতে অস্বীকার করেন। স্বজনদের অভিযোগ, তিনি বলেন, এখানে নয়, উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে সৎকার করতে হবে। বাবলু ভৌমিকের যুক্তি ছিল এটি ‘ঘোষগাতি মহাশ্মশান’, ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’ নয়। তবে কাগজপত্রে শ্মশানটির নাম এখনও ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’ই রয়েছে।
বাধার প্রতিবাদে নিহত নারীর পরিবার ও স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরে শ্মশানের চাবি প্রদান করা হয় এবং সৎকার কাজ সম্পন্ন হয়।
নিহতের ভাইপো সুকদেব সাহা ও রাজেশ কুমার সাহা অভিযোগ করেন, সৎকারে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে মরদেহ নিয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। বাবলু ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়; তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের ফোনে সতর্ক করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। নিহত নারীর সৎকার ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর