ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগ পাঠ্যবইয়ে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৪৭ পিএম

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, যেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সহিংসতা, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ে পুনরায় স্থান পেয়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাস। এই নতুন সংযোজন শিক্ষার্থীদের নিকট-ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা দেয়।

মাধ্যমিক বইয়ে অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু
ষষ্ঠ শ্রেণি:

‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’-এর পাঠ–৯-এ মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার ছবি ও বিবরণ পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে। ২৬ মার্চ ১৯৭১ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা, এবং ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পুনরায় ঘোষণা উল্লেখ করা হয়েছে।

পাঠ–১০ ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ পরিচ্ছেদে ১৯৭৫ সালের বাকশাল, ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, ১৯৮২ সালে এরশাদের ক্ষমতা দখল, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত।

শহীদ নূর হোসেনের ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ ছবি এবং শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।

সপ্তম শ্রেণি:

বাংলা বই ‘সপ্তবর্ণা’-য় কবিতা অংশে ৯ নম্বর কবিতা হিসেবে যুক্ত হয়েছে হাসান রোবায়েতের লেখা ‘সিঁথি’। এতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মানুষের আত্মত্যাগ, রক্তপাত ও মুক্তির প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।

‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’-এর প্রথম অধ্যায়ে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তী পাঠে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক বিবরণ রয়েছে।

অষ্টম শ্রেণি:

বাংলা বইয়ের সাহিত্য কণিকায় ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ শিরোনামে প্রবন্ধে ১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’-এর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ অধ্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, পটভূমি, ফলাফল ও হত্যাকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের হামলার বর্ণনা, রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামের নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণি:

বাংলা সাহিত্য বইয়ে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, কারফিউ উপেক্ষা, মানুষের ঢল, প্রাণহানি এবং প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের বিষয়বস্তু।

ইংরেজি বই ‘English For Today’-এর অধ্যায় ‘Graffiti’-তে বিভিন্ন আন্দোলনে গ্রাফিতির ভূমিকা এবং ১৬ জুলাই রংপুরে নিহত আবু সাঈদের ঘটনা ও মায়ের বেদনাবিধুর উক্তি অন্তর্ভুক্ত।

আন্দোলনের পটভূমি ও শিক্ষা
পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্নীতি ঘটে। ২০২৪ সালের জুনে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে সহিংসতা চালানো হয়। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামের মৃত্যু ঘটে। আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতিত হয়।

সরকারি উদ্যোগ ও স্বীকৃতি
পাঠ্যবইয়ে এই সংযোজনকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। তারা মনে করেন, নতুন প্রজন্ম সত্য ইতিহাস জানতে পারবে এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বাস্তবতা বোঝাবে। মুঈনুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক, বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ছিল না। শিক্ষার্থী ও জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল এটি।

বই বিতরণ ও মুদ্রণ অগ্রগতি

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রা।

প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৮৮০টি বই শতভাগ মুদ্রণ ও বিতরণ।

মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি বই চূড়ান্ত পর্যায়ে। ৮৮.৫০% মুদ্রণ, ৮১.৬০% প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন, এবং ৭৮.৬৯% সরবরাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে।

ষষ্ঠ শ্রেণি ৮৫.৬১%, সপ্তম ৬৮.৬৯%, অষ্টম ৫৪.৭৬%, নবম ৮৭.৯৬% বিতরণ সম্পন্ন।

সকল স্তরের ৬৪৭টি বইয়ের অনলাইন সংস্করণ এনসিটিবির ওয়েবসাইটে আপলোড। অবশিষ্ট বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর