পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবারের আগে জানে আলম সিকদার বাড়ির গেটসংলগ্ন উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক সেখানে এসে থামে। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজন খুব কাছ থেকে জানে আলমকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দেখা যায়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নিহত জানে আলম সিকদার রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য ছিলেন। দলীয় একাধিক নেতা জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ঘটনার পর তিনি কিছুদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তবে এলাকায় তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জানে আলমের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তারা জানান, কী কারণে তাকে লক্ষ্য করে এমন নির্মম হামলা চালানো হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। এ হত্যাকাণ্ডে পরিবারটি গভীর শোক ও আতঙ্কে রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা মুখোশ পরিহিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এদিকে যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রাতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।