চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে চিকিৎসকদের অবহেলায় মোহাম্মদ মোস্তফা নামে সাত বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হওয়ায় অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) নগরের সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। পরে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি শেয়ার করে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
মোস্তফার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামে। বাবা আবু মুসা জানান, শনিবার সকালে তিনি ছেলেকে নগরের বহদ্দারহাট এলাকার হাসপাতালটিতে ভর্তি করান। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মোস্তফাকে সার্জারি কক্ষে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। চমেকে নেওয়ার পর মোস্তফাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদয় ক্রিয়ার বন্ধকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু মুসা বলেন, অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “খতনার মতো সাধারণ চিকিৎসায় সন্তানের প্রাণ হারানো অসম্ভব।”
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মোস্তফাকে ওই চিকিৎসকের কাছে প্রথম দেখানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে তার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত করা হয়। সেখানে খতনা ও ছোট পরিসরের অস্ত্রোপচার করার কথা উল্লেখ ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জানা যায়নি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করা হয় এবং খুব কম ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। তবে কী কারণে মোস্তফার মৃত্যু হলো তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠন বিষয়টি মনিটর করছে। এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।