বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি রাইস মিল থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি ও পরবর্তীতে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বিজন রায় বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিজন রায় (৪৬) বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের গ্রামের মৃত শ্রীনিবাস রায়ের ছেলে। তিনি বীরপাশা বাজারের দক্ষিণ পাশে মেইন রাস্তার সংলগ্ন ‘মৌমিতা রাইস মিল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে বিজন রায় উল্লেখ করেন, গত ৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৩টা ১ মিনিটের সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার রাইস মিলের বাইরে স্থাপিত চারটি সিসি ক্যামেরা চুরি করে নিয়ে যায়। এতে তার প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। কে বা কারা এ চুরির সঙ্গে জড়িত, তা তিনি বা আশপাশের কেউ প্রত্যক্ষ করতে পারেননি।
ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাকে ফোন করে গালিগালাজ ও নানা ধরনের হুমকি প্রদান করছে। এমনকি চাঁদা দাবি এবং দেশ ত্যাগের হুমকি দিয়ে তাকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব হুমকির কারণে বিজন রায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পরিস্থিতির চাপে রাইস মিল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগী বিজন রায় বলেন, "আমার বাড়িতে আমি থাকতে পারি না। হুজাইফা নামের এক ছাত্রদল নেতা আমার কাছে চাঁদা দাবি করছে। ৫ লাখ টাকা চাঁদা ও ২টি মটরসাইকেল কিনে না দিলে এলাকায় থাকতে পারবো না বলে হুমকি দিয়েছে। এছাড়া আমাকে সিসি ক্যামেরা খুলে দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে ও গালিগালাজ করেছে।"
অভিযুক্ত হুজাইফা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি বিজন রায়ের কাছে চাঁদা চাইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি ঢাকায় থাকি, সেখানে লেখাপড়া করি। আমি গ্রামে থাকি না এবং গ্রামের কোনো বিষয়ে আমি জড়িত নই। যদি আমি চাঁদা চাইতাম, তাহলে বিজন রায় বাড়িতে আসত না। এটি পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।"
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়রা বলছেন, চুরি এবং হুমকির ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তার অনুভূতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, যা ব্যবসায়িক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।