অনলাইন রিপোর্টার
জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের প্রার্থীতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রোববার (১১ জানুয়ারি) রুল জারি করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রার্থীদের স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিষয়টি বিচার করার জন্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ রুলের জবাব দিতে হবে।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। রুলে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনী ক্ষমতা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আনা হবে এবং রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে যথাযথ তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। শুরুর সময় হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীতা বাতিল হওয়া কেউ আপিল করেছে কিনা। একইসঙ্গে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়া বা পুনর্বহালের বিষয়েও রাষ্ট্রপক্ষকে হাইকোর্টকে তথ্য জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়।
এরপর ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়। হাইকোর্টের নজরে আসে, নির্বাচনী অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা এবং কোন প্রার্থীর প্রার্থীতা বৈধ বা অবৈধ ঘোষণা করা উচিত, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) ও জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছিল। এই রিটটি মূলত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও প্রার্থীদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করে।
হাইকোর্ট রুলে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তারা কেন এসব প্রার্থীর প্রার্থীতা অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তার কারণ যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করবে। রুলের মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্বাচনী অধিকার রক্ষা করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রত্যাশিতভাবে এই রুল প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা আনবে এবং সম্ভাব্য আইনগত জটিলতা ও বিতর্ক দূর করবে। নির্বাচন কমিশনের জবাবের ভিত্তিতে হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুলের মাধ্যমে প্রার্থীদের বৈধতা নিশ্চিত করা হলে ভোট প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হবে। এছাড়া নির্বাচনী আপিল ও রিট সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
এই রুলের ফলে জাতীয় পার্টি ও এনডিএফের প্রার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পাবে এবং তাদের প্রার্থীতা বাতিল করার বিষয়টি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্ট এই পদক্ষেপ নিয়েছে।