অনলাইন
রিপোর্টার
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি। অথচ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলেও এখনো কাটেনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার জট। কোন দল কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—তা নিয়ে জোটের ভেতরে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, আসন ভাগাভাগির এই সমীকরণে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অতিরিক্ত আসন পাওয়ার দাবির কারণে সমঝোতা শেষ পর্যায়ে এসে থমকে গেছে। একটি শরিক দলের মুখপাত্র জানান, ইসলামী আন্দোলনকে জোটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে সম্মান দেওয়া হলেও তাদের চাহিদা বাস্তবতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সংসদে দলটির কখনো প্রতিনিধিত্ব না থাকা এবং একক নির্বাচনে ভোটের হার কম থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ওই নেতা বলেন, সরকার গঠন করতে হলে শুধু আসন চাইলেই হবে না, জয়ের সমীকরণও মাথায় রাখতে হবে। এ কারণে ইসলামী আন্দোলনকে তাদের ‘হাতপাখার অযৌক্তিক বাতাস’ কিছুটা কমাতে হবে। তবে জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে ঘটা করে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
আসন সমঝোতায় কোনো বড় ধরনের জট দেখছেন না যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, আসন সমঝোতা প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন। মাত্র কয়েকটি আসনে ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী থাকায় আলোচনা চলছে। আলোচনার মাধ্যমে সেটিও সমাধান করা সম্ভব।
জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে দলভিত্তিক বৈঠক চলছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমার আগেই আসন সমঝোতা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে বলে তারা আশা করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দফায় দফায় বৈঠক করে। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত হলে জোটের সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় ১১-এ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার মধ্যেই জামায়াত ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮, এনসিপি ৪৭, এবি পার্টি ৫৩, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪, খেলাফত মজলিস ৬৮, এলডিপি ২৪, খেলাফত আন্দোলন ১১, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬, জাগপা ৩ এবং বিডিপি দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
একাধিক সূত্র বলছে, জামায়াত নিজেদের জন্য প্রায় ১৯০টি আসন ধরে রাখতে চায়। বাকি আসনগুলো শরিকদের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য সর্বোচ্চ ৪০টি আসনের কথা বলা হলেও দলটি অন্তত ৯০ থেকে ১০০ আসনকে ‘সম্মানজনক’ মনে করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, তাদের ‘এ গ্রেডের’ আসন রয়েছে প্রায় ১৪০টি। তিনি অভিযোগ করেন, জরিপের নামে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সমঝোতা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সদিচ্ছা থাকলে সমঝোতা কঠিন নয়। একটি দলের একক আধিপত্য শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করছে। তবে এখনো তারা আশাবাদী।
জোটের মধ্যে ঐক্যমত্য না হলে কিছু আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। এমন ১০ থেকে ১২টি আসনে জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর এক শীর্ষ নেতা জানান, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ইসলামী আন্দোলনকে আরও কিছু আসনে ছাড় দেওয়া হতে পারে। পুরো সিদ্ধান্ত ‘ভোট, জোট ও জয়ের’ সমীকরণ বিবেচনায় নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সংখ্যার চেয়ে আসনভিত্তিক শক্তি ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৮ জানুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, এখন পর্যন্ত এটিকে পূর্ণাঙ্গ জোট না বলে নির্বাচনী সমঝোতা বলা যায়। ২০ জানুয়ারির আগেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আকাশজমিন / আরআর