পঞ্চগড় জেলার সদর থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার দুই আসামীকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের বিন্নাডাঙ্গী এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন— পঞ্চগড় জেলার সদর থানার কায়েতপাড়া হফিজাবাদ গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৫) এবং একই উপজেলার দর্জিপাড়া গ্রামের শাহিনুর ইসলাম (৪২)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পঞ্চগড় সদর থানায় সংঘটিত পৃথক দুটি হত্যা মামলার পর থেকেই এই দুই আসামী আত্মগোপনে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে মামলার তদন্ত কার্যক্রমেও নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।
র্যাব-৪ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে রবিবার বিকেলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের বিন্নাডাঙ্গী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মতে, গ্রেফতারকৃত আসামীরা পঞ্চগড় সদর থানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান এবং বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকেন। এ সময় তারা নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করেন এবং পরিচিতজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেফতার এড়াতে আসামীরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, র্যাব-৪ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত দুই আসামী বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর থানার ওই হত্যা মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আসামীদের গ্রেফতারের খবরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ দমনে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।