ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ন্যায়বিচার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সাতক্ষীরায় লিগাল এইড সভা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:৩০ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের আইন সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সাতক্ষীরায় লিগাল এইড বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে আইনি সহায়তার সুযোগ তুলে ধরা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে সারাদিনব্যাপী সাতক্ষীরা জেলার মোজাফফর গার্ডেন অডিটরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও জেলা লিগাল এইড কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় জেলা লিগাল এইড কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি, বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে দরিদ্র, নির্যাতিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে যেসব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, ভূমি বিরোধ, শ্রমিক অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লিগাল এইড কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে কেবল আদালতকেন্দ্রিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, লিগাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন বিনা খরচে আইনি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধে ঘটনার পর নয়, ঘটনার আগেই সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। ভিকটিম যেন শুরু থেকেই তার আইনি অধিকার ও সহায়তা পাওয়ার পথ সম্পর্কে অবগত থাকে, সে জন্য সমাজভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। আইনি সহায়তা প্রাপ্তির সুযোগ সম্পর্কে মানুষ যত বেশি জানবে, ন্যায়বিচার তত বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।

সভায় সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান বলেন, লিগাল এইড কার্যক্রম শুধু একটি দপ্তরের দায়িত্ব নয়; বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়। তিনি লিগাল এইড সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রণব কুমার হুই বলেন, অনেক সময় মানুষ আইনি সহায়তার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তথ্যের অভাবে তা গ্রহণ করতে পারে না। তাই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে লিগাল এইড সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো জরুরি। তিনি লিগাল এইড সেবাকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেন।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গৌতম মল্লিক বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। লিগাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের আস্থা অর্জন করা গেলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিগাল এইড কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সমন্বয় বাড়লে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহায়তা পাবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিন চৌধুরী বলেন, সহিংসতা ও অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য অংশীজনদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। ভিকটিম যেন ভয় বা সামাজিক চাপে আইনি সহায়তা গ্রহণ থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য পুলিশ লিগাল এইড কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

সভাটির সার্বিক সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার শিল্পী শর্মা। তিনি লিগাল এইড কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। তিনি অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের তেরে দেশ হোমস-এর প্রতিনিধি নুরুল কবির সভায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি লিগাল এইড ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা লিগাল এইড কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভিকটিমবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক ও প্রচার কার্যক্রম চালানো গেলে সাধারণ মানুষ আইনি সহায়তার বিষয়ে আরও আগ্রহী হবে।

সভা শেষে আয়োজকরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা লিগাল এইড কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং ন্যায়বিচার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর