রাজধানীর বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হোটেলকর্মী মিলনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বাগেরহাট সদর থানার এলাকায় র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ যৌথ অভিযানে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।
এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে দক্ষিণ বনশ্রীর প্রধান সড়কের একটি বাসায় ফাতেমার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তার বড় বোন শোভা। নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি হবিগঞ্জের লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে তিনি খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী প্রধান সড়কের এল ব্লকের প্রীতম ভিলার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
নিহতের বড় বোন শোভা গণমাধ্যমকে জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের বাবা-মা ৭ জানুয়ারি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাদের একটি হোটেলের ব্যবসা রয়েছে। ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ফাতেমাকে বাসায় রেখে জিমনেসিয়ামে যান। জিম থেকে ফিরে এসে তিনি দেখেন, গেট লাগানো থাকলেও ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরের সবকিছু এলোমেলো।
শোভা বলেন, ‘‘বাসার ভেতরে বড় একটি পাতিলের মতো জিনিসের নিচে আমার বোনকে কুঁকড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। প্রথমে ভেবেছিলাম মাথায় আঘাত পেয়েছে। পরে হিজাব খুলে দেখি, গলায় রশি প্যাঁচানো এবং গলা বঁটি দিয়ে কাটা।’’ তিনি জানান, তাদের হোটেলের কর্মচারী মিলনের ওপরই পরিবারের সন্দেহ রয়েছে।
শোভা আরও জানালেন, ঘটনা দুই দিন আগে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে মিলন খাবার নেওয়ার জন্য বাসায় এসেছিলেন। সেই সময় লিলি তার সঙ্গে কিছুটা খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও মিলন খাবার নিতে বাসায় আসে।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত মিলনের সঙ্গে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তার সঙ্গে অন্য কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ঘটানো ঘটনা মনে করছেন। তারা চাইছেন, দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডকে গভীর শোক ও আতঙ্ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্কুলছাত্রীর হত্যার ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা ও কমিউনিটির সচেতনতার বিষয়ক আলোচনাও তীব্র করেছে।
র্যাব ও পুলিশ সতর্ক করেছেন, কেউ ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ থাকলে তা সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জানাতে।