বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে আজ বায়ুদূষণের শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সোমবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত বায়ুগুণমান সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান ২৮২ স্কোরে পৌঁছেছে, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
ঢাকার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাতাসও মারাত্মকভাবে দূষিত। তালিকায় ভারতের দিল্লি ২৫০ স্কোরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। চীনের চেংডু তৃতীয় অবস্থানে ২৪৩ স্কোরে এবং মিশরের কায়রো চতুর্থ অবস্থানে ২৩৭ স্কোরে রয়েছে। এই চার শহরের বাতাসকে আজ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হ্যানয়, যার বায়ুর মান ১৯৯ স্কোরে পৌঁছেছে। তবে হ্যানয়ের বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে, খুব অস্বাস্থ্যকর নয়।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুর মানকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোর হলে বায়ু ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর ‘মাঝারি’ বা সহনীয় ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর সাধারণ মানুষের জন্যও অস্বাস্থ্যকর। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর হলে পরিস্থিতি ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যধিক বায়ুদূষণ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। দূষিত বাতাস শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
ঢাকা শহরে যানবাহন, শিল্পকলা এবং নির্মাণ কাজ থেকে বায়ুদূষণ সর্বাধিক। বায়ু মানের সূচকে ২৮২ স্কোরের মধ্যে PM2.5 কণার পরিমাণ বেশি। PM2.5 হল ক্ষুদ্র কণার ধুলিকণা যা ফুসফুসে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
শহরের বাসিন্দাদের প্রতি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দূষিত বায়ুর মধ্যে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহার, এবং ঘরের ভিতরে পিউরিফায়ার বা ভেন্টিলেশন সিস্টেম ব্যবহার করা জরুরি। বয়স্ক, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে ভুগছেন তাদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আইকিউএয়ারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার মতো শহরগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নগর পরিকল্পনাকারীদের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকলার দূষণ হ্রাস, গাছপালা রোপণ ও পাবলিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্বের অন্যান্য দূষিত শহরের তুলনায় ঢাকা আজ শীর্ষে থাকায় আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের উচ্চ দূষণ দীর্ঘদিন চললে তা জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে।