আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সিলেটের দুই কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩০০ জন কারাবন্দি পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কারাগার এলাকায় স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে তারা তাদের ভোট প্রদান করবেন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী বন্দিরা আগেই পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সংখ্যক বন্দির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫১ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহে জটিলতার কারণে নিবন্ধন সম্ভব হয়নি।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বর্তমানে ৮৮৬ জন বন্দি রয়েছেন। সেখান থেকে ৪৭ জন বন্দির পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যারা পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন, তারা যদি ভোটের আগেই জামিনে মুক্তি পান, তবুও তাদের কারাগার এলাকাতেই এসে ভোট দিতে হবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার অনুমতি নেই। এজন্য কারাগার প্রাঙ্গণের মধ্যেই আলাদা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মোসা নাহিদা পারভীন বলেন, “প্রায় ৪০০ জন বন্দি পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে আড়াই শতাধিক বন্দির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তথ্যগত ত্রুটি থাকায় কিছু আবেদন বাতিল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভোটের আগে কেউ যদি মুক্তি পান, তবুও পোস্টাল ভোটের জন্য তাকে কারাগারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এখানেই ভোট দিতে হবে। এটি আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ।”
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, “আমাদের কারাগার থেকে ৪৭ জন বন্দির পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে, তাদের সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় কারাবন্দির ভোট নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে ভোট নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়।”
নির্বাচন কমিশন এবং কারা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কাগজপত্র এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। কারাগারের বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন এবং এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
এভাবে ৩০০ জন কারাবন্দি পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দেবার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি দেশের ইতিহাসে কারাবন্দির ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।