ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচর থেকে লুণ্ঠিত একটি কাভার্ডভ্যানসহ এলপিজির ৪৬২ বোতল গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের এসব গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হলেও অভিযুক্ত ডাকাতচক্রের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে ৪৬২ পিস এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান বাগেরহাটের মংলা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। রাতের কোনো এক সময় গাড়িটি ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মুখোশধারী একদল ডাকাত পথরোধ করে। এ সময় তারা চালক আসলাম খান ও তাঁর সহযোগী রিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে সিলিন্ডার বোঝাই কাভার্ডভ্যানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে গাড়িটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পথিমধ্যে আহত চালক ও সহকারীকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় ডাকাতরা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
পরদিন এ ঘটনায় শিবচর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতচক্রের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ঢাকা জেলার আশুলিয়ার গকুলনগর এলাকায় ডাকাত মেহেদি হাসান আতিকের গোডাউন, বাসা ও দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তার বাসার তালা ভেঙে তল্লাশি চালিয়ে লুণ্ঠিত ৪৬২ বোতল এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যানটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতচক্রের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে উদ্ধার করা গ্যাস সিলিন্ডার ও কাভার্ডভ্যান বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের বাজারমূল্য আনুমানিক ১৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের নির্দেশনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে লুণ্ঠিত গ্যাস সিলিন্ডার ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত ডাকাতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।