বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আনন্দের মিলনমেলা মুহূর্তেই শোকের পরিবেশে পরিণত হলো। অনুষ্ঠানে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এবং সাবেক শিক্ষার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঘটনা ঘটে শুক্রবার রাতের সময়ে বাকৃবি ক্যাম্পাসে।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনটি গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে গ্র্যান্ড ডিনার শেষ করে নিজের কক্ষে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আবু সাদাত। গাড়িতে ওঠার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। দীর্ঘ সময় পর বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দ সবার চোখে-মুখে ছিল, কিন্তু আবু সাদাতের আকস্মিক মৃত্যু সেই আনন্দ এক নিমেষেই শোকে পরিণত করে।
উক্ত ঘটনায় বন্ধুরা এবং পুরোনো সহপাঠীরা শোকে বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েন। পুনর্মিলনী আয়োজনের আনন্দময় পরিবেশ এখন শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন। পুরো অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
পুনর্মিলনী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এবং বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এইচ এম সাগর বলেন, “আনন্দ হঠাৎই অশ্রুতে পরিণত হলো। আমাদের বন্ধু পুনর্মিলনীতে এসে এভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে, এটা কেউ ভাবতে পারেনি। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত। এই ক্ষতির সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমাদের জানা নেই। আমাদের সব আয়োজন ক্যান্সেল করা হয়েছে। আজকের দিনটি আমরা শোকের মধ্যেই পালন করছি।”
উল্লেখ্য, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাকৃবির ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন এবং অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু বন্ধুবৃন্দ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে।
পুনর্মিলনীতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এবং বন্ধু-বান্ধবরা ঘটনার প্রভাবের মধ্যে শোকাহত। তারা বলেন, এত বছর পর বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দের মুহূর্তে এ ধরনের দুর্ঘটনা একেবারেই অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক। বাকৃবির শিক্ষক ও কর্মীরা শোকপ্রকাশ করেছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় পুনর্মিলনী কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব আয়োজন স্থগিত রেখেছে এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সর্বোচ্চ সমবেদনা জানাচ্ছে। শোকের এই পরিবেশে অনুষ্ঠানস্থলকে শান্ত রাখার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন /
আরআর