ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিতর্কের মুখে ইউপি ভোটের সময়সূচি, তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইসির চলচ্চিত্রকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নিতে কাজ করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী রামগঞ্জে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে মিললো চুরি হওয়া গরু পুতিন-মোদির ভাইরাল ব্রিকস সেলফি এআই দিয়ে বানানো: এএফপি জাফর ইকবাল ও সাবেক ভিসি মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে চার্জশিট একাদশে ভর্তির প্রথম ফল প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর মাইগ্রেশন প্রশাসনিক কারণে ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসিকে প্রত্যাহার বছরে ৫ হাজার তরুণকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে : মাহদী আমিন জাবিতে র‍্যাগিং: ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠক করবে যুক্তরাষ্ট্র

ঋণখেলাপি-দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচন করতে দিলে রাজপথে নামব : আসিফ মাহমুদ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:৫৫ পিএম

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এসব ব্যক্তিকে যদি নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে নামতে বাধ্য হবে এনসিপি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনে পেশিশক্তির প্রকাশ্য প্রদর্শনী চলছে। শুনানিতে অংশ নিতে অনেক প্রার্থী শত শত লোক নিয়ে হাজির হচ্ছেন, যা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কেউ কেউ আইনজীবীদের মহড়া দিয়ে ভয়ভীতি তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা অতীতে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন এবং সেখানে বসে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তারাই এখন আবার দেশে ফিরে জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ তারা এখনো দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রেখেছেন। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ঋণখেলাপিরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। জনগণের টাকায় পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাপি ঋণের বোঝায় জর্জরিত করে এখন তারাই আবার সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা শুধু আইনি পথে নয়, রাজপথেও প্রতিবাদ জানাব। এই নির্বাচন কমিশনকে কোনোভাবেই দায়সারা একটি নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, কমিশন যদি শক্ত অবস্থান না নেয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি হারাবে নির্বাচন ব্যবস্থা।

এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হলে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে কঠোর হতে হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের ছাড় দিলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদি এ বিষয়ে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালতের পাশাপাশি জনগণকেও সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামা হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে এনসিপি নেতারা জানান, আগামী দিনগুলোতে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর