ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

মোহাম্মদপুর হত্যাযজ্ঞে নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জ


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৩৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

চলতি বছরের ২৪ জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কাছে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে মোহাম্মদপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।”

মামলায় জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অন্য আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকেও আসামি করা হয়েছে। নানক ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা হত্যাযজ্ঞ, জোরপূর্বক সম্পদ দখল, ধ্বংসযজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। ফরমাল চার্জে এসব কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সূত্র জানায়, মামলা চলাকালীন সময় বিভিন্ন দল ও ব্যক্তিকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য সমন পাঠানো হবে। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায় দেবে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, “এ ধরনের মামলা মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য হলো সব প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।”

মোহাম্মদপুরে সংঘটিত এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনা দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে ধরা হয়। মামলার শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এছাড়া আদালত আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দলিলাদি এবং প্রমাণাদি আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। মামলার প্রাথমিক শুনানিতে আসামিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

ফরমাল চার্জ দাখিলের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসারে এবং দেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর হত্যাযজ্ঞের মামলায় এই ফরমাল চার্জ দাখিল দেশের আইনি প্রক্রিয়াকে দৃঢ় করছে এবং ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়ার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর