গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দাদি-নাতিসহ তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, তেঁতুলিয়া গ্রামের মোশারেফ শিকদারের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৫০) এবং তাদের নাতি সাইফান সিকদার (৮), এছাড়া প্রতিবেশী হানিফ শিকদারের ছেলে ইরান শিকদার (৫৫)।
কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের সজীব শিকদারের বাড়ির পাশে বোরো ধানের চারা রক্ষার জন্য ইঁদুর ঠেকাতে বিদ্যুতের তার দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল। ওই ফাঁদে বিদ্যুতের তারের লিকেজ ছিল, যা প্রথমে নাতি সাইফান স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাকে বাঁচাতে দাদি রাহেলা বেগম ছুটে গিয়ে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এই ঘটনা দেখে প্রতিবেশী ইরান শিকদারও সাহায্য করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং তিনি ও ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত সাইফানকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাশিয়ানী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলিয়া গ্রামে ইঁদুর ঠেকাতে এই ধরনের বিদ্যুতের ফাঁদ আগে থেকেই ব্যবহার করা হতো। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং পুনরায় এমন ঘটনা এড়াতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “প্রতিটি বাড়ি ও ধানের ক্ষেতে এই ধরনের ফাঁদ বসানোর সময় সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” তিনি স্থানীয়দের সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যুতের তারে ইঁদুর ঠেকানোর এই প্রথা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু ও বৃদ্ধরা সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা নেবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত ধনাঢ্য বা বিত্তশালী না হলেও তাদের জীবন-মৃত্যুর এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ গভীরভাবে শোকাহত।
প্রসঙ্গত, এ ধরনের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুর্ঘটনা গোপালগঞ্জ ও আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় পূর্বেও ঘটেছে। তবে এবার দাদি-নাতিসহ তিনজন একসাথে মারা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ব্যাপক।
স্থানীয়রা পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিদ্যুতের ফাঁদ স্থাপন বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। দাদির বয়স ছিল ৫০ বছর এবং নাতির বয়স মাত্র ৮ বছর। প্রতিবেশী ইরান শিকদারের বয়স ৫৫ বছর। তারা সবাই পরিবারের জন্য অবদান রাখতেন এবং এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের কারণ হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন তৎপর হয়ে পুনরায় এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আকাশজমিন / আরআর