নেত্রকোনা প্রতিনিধি ॥
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি, বিরূপ মন্তব্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে নেত্রকোনার লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়াকে বহিস্কার করা হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের (ইউপি-১ শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ মোতাছিম বিল্যাহ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সাইদুর রহমান ভুঁইয়া ওই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। এ সময় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে পারভেজ ও বকুল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান। তিনি উপস্থিত জনতার সামনেই ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। উচ্চস্বরে জানতে চান, ‘কী করছেন এইটা? বলেন আমাকে?’ তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। মোবাইল কোর্ট আগে শেষ হোক।’ জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বাক্ষর করার আগে আমাকে বলেন। আমার ইউনিয়ন এটা। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আপনি মোবাইল কোর্ট করবেনÑ আগে আমাকে আগে বলতে হবে।’ ‘কে বলেছে এটা? কোন আইনে আছে?Ñ ম্যাজিস্ট্রেটের এমন প্রশ্নে সাইদুর বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’
ঘটনার পর বাগ্বিতণ্ডার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভাইরাল হয়। মন্তব্যে অনেকেই চেয়ারম্যানের এমন আচরণের নিন্দা জানান। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত অবমাননা, আদালতের প্রতি বিরূপ মন্তব্য, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তাকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘আমি এই এলাকার চেয়ারম্যান। তাই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাটি জানতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে কোনোকিছু বলতেই রাজি হননি। প্রশাসনের লোক হওয়ায় চেয়ারম্যান তো দূরের কথা, একজন মানুষ হিসেবেও আমাকে মূল্যায়ন করতে চাননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাদের আটক করা হয়েছিলÑ তাদের নামে আগে কোনো নোটিশও পাঠানো হয়নি। সবকিছুর তো একটা নিয়মনীতি আছে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কি তা জানতে পারি না?’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) একাধিকবার ফোন করলেও তারা ধরেননি।
আকাশজমিন / আরআর