বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ড. মাহাদী আমিন এবং চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা বৈঠকে অংশ নেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক।
বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকগুলোও আলোচনায় আসে। বিএনপির পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।