চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চলাকালে হামলার শিকার হয়েছেন র্যাবের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এ ঘটনায় মো. তওহীদ নামে চট্টগ্রাম র্যাবের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহত তওহীদ সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক ছিলেন। তিনি বিজিবি থেকে ডেপুটেশনে র্যাবে যোগ দিয়েছিলেন।
ঘটনা সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ঘটে। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব পলাশ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হন এবং তাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি র্যাব টিম আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু করলে দুর্বৃত্তরা র্যাবের চার কর্মকর্তা ও সদস্য এবং এক সোর্সকে আটকে বেদম প্রহার করে। পরে পুলিশ ও র্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স জিম্মিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এলাকাটি এখনো সশস্ত্র পাহারায় নিয়ন্ত্রিত এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ।
জঙ্গল সলিমপুরের মোট আয়তন প্রায় ৩,১০০ একর। লিংক রোড সংলগ্ন জমির বাজারমূল্য প্রতি শতক ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা। দখল হওয়া সরকারি খাস জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলে আসছে।
গত বছর ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ আরও বেড়ে যায়। এর ফলে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে অভিযানে গিয়ে র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বহুবার হামলার মুখে পড়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থার কারণে সন্ত্রাসীরা আগাম খবর পেয়ে যায়। পাহাড় থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের কারণে এককভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সরকারি খাস জমিতে কারাগার, আইটি পার্কসহ অন্তত ১১টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও জমি উদ্ধার না হওয়ায় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।
আকাশজমিন / আরআর