ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

পরিবার ফিরলেও খোলা থাকবে ভারতীয় হাইকমিশন


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:০৩ পিএম

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে কর্মরত নিজেদের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে ভারতের প্রধান কূটনৈতিক মিশন হিসেবে ঢাকায় অবস্থিত রয়েছে দেশটির হাইকমিশন। এ ছাড়া খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভারতের সহকারী হাইকমিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত কূটনীতিক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ধাপে ধাপে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি হবে না বলে স্পষ্ট করেছে ভারত সরকার।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অবস্থিত হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর স্বাভাবিকভাবেই খোলা থাকবে। নিয়মিত কনস্যুলার সেবা, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে। শুধুমাত্র নিরাপত্তা বিবেচনায় পরিবার সদস্যদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। এ প্রেক্ষাপটে কোনো ঝুঁকি এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের কর্মপরিবেশে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবু পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে যাতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পরিবার সদস্যদের প্রত্যাহার মানেই বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা নয়। বরং কূটনৈতিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের মনোযোগ কাজে ধরে রাখতে এটি একটি সাময়িক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে পরিবার সদস্যদের পুনরায় বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা, ভিসা ও কনস্যুলার সেবা প্রদান এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে এসব কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না।

এদিকে ভারতের এই পদক্ষেপকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনপূর্ব সময়ের প্রেক্ষাপটে ভারতের সতর্ক অবস্থান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে নয়াদিল্লি—এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: পিটিআই, ইন্ডিয়া টিভি


এ সম্পর্কিত আরো খবর