ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

প্রচারণা শুরু কাল, সংঘর্ষের আশঙ্কা


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:২৭ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রার্থীদের প্রচারণা আগামীকাল (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও পথসভা করবেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। আনুষ্ঠানিক এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংসতা এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের সম্ভাব্যতা নিয়ে সতর্ক। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা জোরদার করেছে। তারা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের প্রচারণার সময়ে যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে। কারাগার থেকে বের হওয়া বিভিন্ন অপরাধীর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। ভোটের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এলাকাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে প্রচারণার আগে ও পরে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা এবং গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশসহ সব বাহিনী সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করবে।

আসন্ন নির্বাচনে পুলিশসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্য প্রায় দেড় লাখ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, সশস্ত্র বাহিনী প্রায় এক লাখ, র‍্যাব প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫০০ এবং ফায়ার সার্ভিস ১৩ হাজার। নজরদারিতে ড্রোন ব্যবহার ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ আল মোবারক মসজিদের সামনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হন। পুলিশের মিরপুর জোনের ডিসি মইনুল হক সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য ও একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এর আগে ১৮ জানুয়ারি রাতে একই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং জামায়াতের নির্বাচনি কার্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যানবাহনে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ১৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদরে নির্বাচনি প্রচারণা কেন্দ্রিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর দিন থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনসহ ভোটানুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনি আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনমনে আস্থা ও স্বস্তি আনতে দৃশ্যমান কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ কার্যক্রম ইতিমধ্যে সুফল দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডিওর্ন ক্যামেরা মোতায়েন থাকবে, যাতে কোনও ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ডগ স্কোয়াডও থাকবে। সদর দফতর থেকে নির্বাচনি সব কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। পুলিশ ইউনিটকে দাফতরিক কাজ কমিয়ে মাঠে বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। তবে এবার যেন এমন কিছু না ঘটে, সেজন্য পুলিশসহ অন্য বাহিনী সতর্ক রয়েছে। লক্ষ্য নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর