ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসংগঠকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রী রুট নিয়ে অসন্তোষ সত্ত্বেও আজ চালু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ নেতানিয়াহুর পতনে আরবদের সঙ্গে জোট গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ সাজেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: ফের ১২ ঘণ্টার নতুন অবরোধ ঘোষণা যুদ্ধের শেষ পরিণতি আমরাই ঠিক করব: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর বার্তা ৮৬ বছর পর লা লিগায় অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে সতর্কবার্তা জারি টিল অস্ত্রোপচার কাটিয়ে তিন দেশ সফরে পোপ লিও এক রুট এক কোম্পানি: ঢাকায় ৬ রুটে বাস চলাচল শুরু

কানাডাকে গিলে খাবে চীন, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১:৪৮ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করছে, যার ফলাফল হিসেবে চীন এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে “গিলে খাবে”। ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন নিয়ে কানাডার বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন ডোম স্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কানাডা, যদিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কানাডাকেও নিরাপত্তা দেবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার পরিবর্তে কানাডা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অথচ এই চীনই ভবিষ্যতে কানাডাকে গ্রাস করবে।

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছেন। তিনি একাধিকবার দেশটির নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার নির্ভরশীলতার কথা তুলে ধরেছেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সুবিধার কারণেই কানাডা নিরাপদ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টিকে থাকতে পারছে।

সম্প্রতি কানাডা ও চীনের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় দুই দেশের কিছু পণ্যের আমদানি ও রপ্তানিতে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে বেইজিং সফরে গিয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করেন। এই চুক্তির পরপরই ট্রাম্প মন্তব্য করেন, চীনের সঙ্গে ব্যবসার আড়ালে কানাডা নিজেদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

যদিও বাস্তবতায় কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এখনো যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই অবস্থান করছে চীন। এক সময় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে উভয় দেশ আবারও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্পের মতে, এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে কানাডার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এর আগে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যেও গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যদি গোল্ডেন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কানাডা এর নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বহু ক্ষেত্রেই কানাডাকে বিনামূল্যে সুবিধা দিয়ে থাকে।

ট্রাম্প আরও বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে টিকে আছে এবং দেশটির নেতাদের এই বিষয়টি মনে রাখা উচিত। কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে এই বাস্তবতা স্মরণ রাখা প্রয়োজন।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। তার ভাষায়, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেঁচে নেই। কানাডা সফলতা পাচ্ছে কারণ তারা কানাডিয়ান পরিচয়ের ভিত্তিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি কানাডার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর