সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে মাছ ধরার সময় ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে একদল সশস্ত্র বনদস্যু অন্তত ১৯ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুন্দরবননির্ভর জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মামুন্দো ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র বনদস্যুরা নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে নৌকাগুলোর যাত্রীদের ভয় দেখায়। এরপর প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
জেলেদের দাবি, দস্যু দলের মধ্যে তারা ২০১৮ সালে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আটিরউপর গ্রামের শাহাজান ও একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটে শফিকুলকে চিনতে পেরেছেন। ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা তাদের চেনা মুখ ও পরিচয় অনুযায়ী নিশ্চিত যে, এই অভিযান পূর্বপরিকল্পিত এবং সশস্ত্র ছিল।”
মামুন্দো নদীর মাইটেভাঙা খাল থেকে তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। এ সময় দস্যুরা দুটি নৌকা ছেড়ে দিয়ে একটি নৌকা নিয়ে গেছে। মালঞ্চ নদীর মাইশারকোল খাল থেকে দুটি নৌকার দুজন, একই নদীর উলোবাড়ি খাল থেকে দুটি নৌকার দুজন, মামুন্দো নদীর রাজাখালী খাল থেকে তিনটি নৌকার তিনজন এবং কলাগাছি এলাকা থেকে তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে আরও নয় জেলেকে জিম্মি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জেলেদের পরিবার এবং সুন্দরবননির্ভর কমিউনিটিতে এই ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, বনদস্যুরা নিয়মিতভাবে জেলেদের উপর ত্রাস সৃষ্টি করছে। জেলেরা এখন নিরাপত্তার অভাবে নদী ও খালগুলোতে মাছ ধরতে দ্বিধা বোধ করছে। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
স্থানীয়রা বলেন, “প্রত্যেকটি নৌকা যখন রিজিকের সন্ধানে নদীতে যায়, তখন তারা অনিশ্চয়তা ও ভয় নিয়ে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছে। এই ধরনের অপহরণ সম্প্রদায়ের জীবিকা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধাক্কা।”
বনদস্যুদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দেয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন, অপহরণকারীরা পুনরায় একই প্যাটার্নে আরও জেলেকে লক্ষ্য করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা, রেঞ্জার বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।
সাতক্ষীরার সুন্দরবন এলাকায় জেলেদের নিরাপত্তা এবং জীবিকা রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জেলেদের নিরাপদ মাছ ধরার জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বনদস্যুদের দমন ও অপহরণ প্রতিরোধে কৌশলগত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।