ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে সংবাদপত্র মালিক-সম্পাদকদের সমালোচনায় প্রেস সচিব


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:৪২ পিএম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুতে বড় একটি কারণ ছিল যে, সাংবাদিকদের কোনও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি সমালোচনা করেছেন সংবাদপত্র মালিক-সম্পাদকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং এডিটরস কাউন্সিলকে, যারা শুধুমাত্র বড় কথা বললেও সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করছে না।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও প্রতিনিধি সুসান ভাইজ সভাপতিত্ব করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনগত সহায়তা সংস্থা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুল আলম বলেন, আমরা সাংবাদিকরা সরকারের সমালোচনা করি, করবই। তবে যারা সাংবাদিকদের জন্য দায়িত্বশীল তাদের কথাও বলা উচিত। সরকার কী করছে আর কী করছে না সেটাও আমরা দেখবো। কিন্তু যারা সাংবাদিকদের সুরক্ষায় দায়ী, তারা কী করেছে, সেটা নিয়ে কথা বলাটা খুবই জরুরি। এখানে বড় একটি ব্যর্থতা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে ছয়জন সাংবাদিক মারা গেছেন। তাদের কেউই সুরক্ষা সরঞ্জাম যেমন হেলমেট, প্রটেক্টিভ ভেস্ট কিংবা গগলস পায়নি। এমনকি টিয়ার গ্যাস থেকে রক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। অথচ নোয়াব ও এডিটরস কাউন্সিল বড় বড় কথা বলে। সম্প্রতি তারা বড় সম্মেলন করেছে, সেখানে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কেউ কিছু বলেনি, তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি।

প্রেস সচিব সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরবেন অবশ্যই, কিন্তু যারা আপনাদের কাজের সুযোগ দেয় তাদের দায়িত্বের কথাও বলুন। তারা কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে, সেটাও জানানো প্রয়োজন।

শফিকুল আলম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাও জোর দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের ডাক আসা দরকার। কিন্তু ঐক্য মানে সিলেক্টিভ নয়, সবার জন্য হওয়া উচিত। যেই মিডিয়া যেখান থেকে আসে, যাদের সঙ্গে কাজ করে, সবার জন্য সাংবাদিকতার অধিকার থাকা দরকার।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা যখন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তখন সবার সাপোর্ট থাকা উচিত, শুধু কিছু গোষ্ঠীর নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মধ্যপন্থি মিডিয়া থাকতেই পারে। সবাইকে সম্মান দিয়ে কাজ করতে হবে, সাংবাদিকতা মুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে হবে। গত ১৮ মাসে সরকার এই দিকেই কাজ করেছে। কতটুকু সফল, সেটা সাংবাদিক ও জনগণের বিচার।

শফিকুল আলম শেষাংশে বলেন, সরকারের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এই সময়ে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন। সমালোচনার জন্য কারও সমস্যা হয়নি। হয়তো অন্য কোনও কারণে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বাধা ছিল না।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর