ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিলেন রাষ্ট্রপতি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:২২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগও আইনত দায়ের করা যাবে না।

রবিবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে আধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদিত হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। ওই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল এবং আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল।

অধ্যাদেশের প্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানকারীরা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা পাবেন। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা যাবে। আদালত এরপর আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। এভাবে মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে খালাস পাবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি যদি পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, তবে কমিশন তাদের তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না। তদন্ত চলাকালীন গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।

কমিশনের তদন্তে দেখা গেলে অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। অপরাধমূলক অপব্যবহার ধরা পড়লে কমিশন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য আইনগত কার্যধারা নেওয়া যাবে না। এছাড়া সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারবে।

এভাবে জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনশৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর