ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

নারায়ণগঞ্জের পাঁচ আসনে ৪৮ প্রার্থী, জটিল ভোটের সমীকরণ


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:১৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটের লড়াইয়ে মোট ৪৮ জন প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চারটি আসনে বিএনপি ও তাদের শরিক দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পাঁচ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী থাকায় সমঝোতা হয়নি। ফলে জেলার রাজনীতিতে জটিল ও বহুমাত্রিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া চার ডজন প্রার্থী ইতোমধ্যে পুরোদমে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে নির্বাচনি উত্তাপের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, প্রচারণায় বাধা ও প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বাকযুদ্ধ স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে সাত জন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সাত জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১ জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ জন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবদল নেতা মো. দুলাল, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনিরুজ্জামান চন্দন, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াস মোল্লা, সিপিবির হাফিজুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ ও রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোট থেকে চার জন প্রার্থী ছিলেন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম। প্রতীক বরাদ্দের পর জামায়াতের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহানকে সমর্থন দেন। তবে বাকি দুই প্রার্থী এখনো মাঠে রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসাইন কাসেমীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। ১০ দলীয় জোট থেকে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, বাসদ, জাসদ, সিপিবি, গণঅধিকার পরিষদসহ একাধিক দলের প্রার্থী রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির আবুল কালামের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ হোসেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, সিপিবি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন মো. দুলাল, আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, রেজাউল করিম ও মো. শাহ আলম।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন এবং ভোটের দিন ফলাফলই সব প্রমাণ করবে। বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থীদের কারণে তিনি বিচলিত নন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবমিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের সমঝোতা সংকট এবং সহিংসতার অভিযোগ নির্বাচনি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভোটের দিন এসব আসনে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর