ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল সাইবার হামলার শিকার ডিএমপি নিউজ, ওয়েবসাইটে আপত্তিকর বার্তা খুলনায় রাতের আঁধারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: এলাকায় আতঙ্ক রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ গ্রেপ্তার দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসংগঠকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রী রুট নিয়ে অসন্তোষ সত্ত্বেও আজ চালু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ নেতানিয়াহুর পতনে আরবদের সঙ্গে জোট গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ সাজেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: ফের ১২ ঘণ্টার নতুন অবরোধ ঘোষণা

দিশেহারা ৩০০ বাংলাদেশি

গ্রিসে এনবিএল মানি ট্রান্সফারে তালা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:২০ পিএম

প্রবাস থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন হাজারো বাংলাদেশি। কিন্তু গ্রিসে প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ দেড় মাসের বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এনবিএল মানি ট্রান্সফার এসএ’। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলতে দেখা যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।

ভুক্তভোগীদের একজন গ্রিস প্রবাসী মোহাম্মদ ইসলাম। তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য গত বছরের ২১ ডিসেম্বর তিনি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ওমোনিয়ায় অবস্থিত এনবিএল মানি ট্রান্সফার এজেন্সির ‘এনবিএল কুইক পে’ এর মাধ্যমে ২ হাজার ইউরো পাঠান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন লাখ টাকা। কিন্তু দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই অর্থ এখনো তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি।

বারবার এজেন্সিতে গিয়ে কোনো সদুত্তর না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন মোহাম্মদ ইসলাম। শুধু তিনিই নন, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে অন্তত তিন শতাধিক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশে পৌঁছায়নি। এসব ভুক্তভোগীর মধ্যে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দূতাবাসে লিখিত অভিযোগও করেছেন একাধিক প্রবাসী।

ভুক্তভোগীদের ধারণা, আটকে থাকা রেমিট্যান্সের পরিমাণ অন্তত পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা। রশিদ যাচাই করে দেখা গেছে, প্রত্যেক প্রবাসীর পাঠানো অর্থের পরিমাণ দুই থেকে তিন লাখ টাকারও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সমাধান না পেয়ে প্রবাসীদের হতাশা দিন দিন বাড়ছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর পরও তারা কোনো সেবা পাচ্ছেন না। উল্টো কয়েকদিন ধরে এনবিএল মানি ট্রান্সফার এজেন্সিতে তালা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এতে অনেকের মনে ভয় কাজ করছে, আদৌ তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন কি না।

রফিক মিয়া নামে এক প্রবাসী বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দেড় মাসেও টাকা না পৌঁছানোয় দেশে থাকা স্বজনদের চাপ ও দুশ্চিন্তার মুখে পড়েছেন। আরেক প্রবাসী শরিফ জানান, মাস শেষে বেতন পাঠিয়েই তাদের সংসার চলে। সেই টাকা আটকে গেলে বিদেশে থেকে কাজ করার অর্থই হারিয়ে যায়।

কবির মিয়ার অভিযোগ, শুরুতে নানা অজুহাতে সময় নষ্ট করা হলেও এখন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগই করা যাচ্ছে না। এতে অনেক প্রবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য নিতে এনবিএল মানি ট্রান্সফার এজেন্সিতে গেলে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস এম রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি তার নেই।

এ বিষয়ে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসীদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আটকে থাকা কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার করা হোক, যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন তারা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর