ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি আই.এস. বিন্দ্রা আর নেই। রোববার (২৬ জানুয়ারি) নয়া দিল্লিতে ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে এক অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আই.এস. বিন্দ্রা ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হিসেবে। ১৯৭৮ সাল থেকে টানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৬ বছর তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ক্রিকেট প্রশাসন থেকে অবসর নেন তিনি।
ভারতীয় ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে বিন্দ্রার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার নেতৃত্বেই মোহালির পিসিএ স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। পরবর্তীতে এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় তার নামেই। এই স্টেডিয়ামে ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভারত পাকিস্তানকে পরাজিত করে।
বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বাইরে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয় ভারত ও পাকিস্তানে। এই ঐতিহাসিক আয়োজনের পেছনে আই.এস. বিন্দ্রা, বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি এন.কে.পি. সালভে এবং জগমোহন ডালমিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বে উপমহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজন নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
ভারতের প্রাক্তন টিম ম্যানেজার ও বিসিসিআই-এর সাবেক কর্মকর্তা অমৃত মাথুর এক সাক্ষ্যে জানান, ১৯৮৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সে সময় বিন্দ্রাই পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হককে ভারতে সফরের পরামর্শ দেন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
যদিও বিভিন্ন বিষয়ে বিন্দ্রা ও জগমোহন ডালমিয়ার মধ্যে মতপার্থক্য ছিল, তবুও তারা একসঙ্গে কাজ করে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজন নিশ্চিত করেন। বিন্দ্রা ছিলেন একজন দক্ষ কূটনীতিক ও প্রশাসক, যিনি বিসিসিআই এবং পরবর্তীতে আইসিসি-তে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতেন। আইসিসি-তে তিনি শরদ পাওয়ারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিন্দ্রা লিখেছিলেন, ‘সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে রাখা উচিত, যদি “জগ্গু” না থাকতেন, তাহলে আধুনিক ক্রিকেট ও এর প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।’
আই.এস. বিন্দ্রার মৃত্যুতে বিসিসিআই এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বোর্ডের প্রার্থনা ও সমবেদনা তার পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে রয়েছে। আইসিসি চেয়ারম্যান ও বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সচিব জয় শাহও শোক জানিয়ে বলেন, ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের এই স্তম্ভের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
আকাশজমিন / আরআর