ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা চলবে না: ইসি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৪৩ পিএম

ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রভাব খাটানো, ভিড় জমানো কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ভোটের নিরাপত্তা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতি, বাধা বা চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। বরং উৎসবমুখর পরিবেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ভোটারদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন তিনি।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় প্রায় ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল বিচারক দায়িত্ব পালন করবেন। এসব টিম তিন ভাগে কাজ করবে। এর মধ্যে দুটি টিম ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে এবং আরেকটি টিম নির্বাচনকালীন চার দিন দায়িত্ব পালন করবে। যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের মধ্যে তিনটি বিষয় অবশ্যই থাকতে হবে—স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। কোনো কিছু গোপন করা যাবে না এবং সক্ষমতা না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো কর্মকর্তাকে একপেশে নির্দেশনা দেওয়া হবে না। এবারের নির্বাচনে কর্মকর্তারা নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন, যা ইতিবাচক। ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়েও প্রচার কার্যক্রম চলছে এবং ভোটারদের এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। পোস্টাল ভোট যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি।

ইসি জানান, ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না। কারণ, কলম দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট নষ্ট করার আশঙ্কা থাকে। সে জন্য পেন্সিল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মর্যাদা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের ঘাটতি থাকলে কী ধরনের ক্ষতি হয়, তা আমরা অতীতে দেখেছি। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই।

ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে প্রতিটি আসনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন নজরদারিতে থাকবে বলে জানান ইসি। নির্দিষ্ট সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ছয়টি কমিটি তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসির সদস্যরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা। সভায় চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনি তথ্যও উপস্থাপন করা হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর