চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব-৭ এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। এই দুই আসামির মধ্যে একজন হলো মো. মিজান এবং আরেকজন তার সহযোগী। এ নিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
র্যাব-৭ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) একই মামলায় অপর আসামি কালা বাচ্চুকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এক নং সমাজের বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
জঙ্গল সলিমপুর প্রশাসনিকভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতাভুক্ত হলেও, এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। প্রায় ৩,১০০ একর খাস জমিতে গড়ে ওঠা এই ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বর্তমানে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী চক্রের দখলে। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এই বসতি এখনও অবৈধ প্লট বাণিজ্য ও পাহাড় কেটে চলমান কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এলাকার সাধারণ মানুষ বারবার সন্ত্রাসী হামলা ও সংঘর্ষের কারণে আতঙ্কে রয়েছে। স্থানীয় সুত্রের তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় সশস্ত্র পাহারায় রাখা হয় সন্ত্রাসীদের। প্লট ব্যবসা ও দখল টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এলাকায় সক্রিয়।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে র্যাব-৭ অভিযানে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করে ভাঙচুর করে এবং লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় র্যাবের চার সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যান্য তিনজন সদস্য উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মরদেহ কুমিল্লায় আনার পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য তারা অভিযান অব্যাহত রাখবে। এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
এ ঘটনার মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুর অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। র্যাব কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করার লক্ষ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর