কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) এর একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল আট ঘণ্টা বন্ধ ছিল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইউসুফ জানান, ভৈরব বাজার জংশন থেকে কেবিন স্টেশন মাস্টার রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামগামী মেইল-২ কে সামনে যাওয়ার অনুমতি দেন। লোকোমাস্টার ট্রেনটি কিছু দূরে গেলে ইঞ্জিনের চতুর্থ কোচ লাইনচ্যুত হয়। ফলে ওই স্টেশনের আপ-ডাউন লাইন বন্ধ হয়ে যায় এবং ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে সব ট্রেন চলাচল স্থগিত হয়।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় নিরাপত্তা ও রেলওয়ে কর্মীরা এলাকা ঘিরে রাখে। লাইনে কোনো যাত্রী বা ট্রেনের ইঞ্জিন/কোচের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে সঠিক উদ্ধার ও পুনরায় লাইনে বসানোর জন্য রিলিফ ট্রেন মোতায়েন করা হয়।
সকালেই আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুপুর ১১টার দিকে প্রায় আট ঘণ্টা পর পুরো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। উদ্ধারকাজে লাইনে থাকা রেলওয়ের কর্মী এবং রিলিফ ট্রেনের টেকনিশিয়ানরা নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা-মেইল-২ ছাড়াও অন্যান্য ট্রেনগুলোও পুনরায় নির্ধারিত সময়সূচিতে চলাচল শুরু করেছে।
ভৈরব বাজার জংশন এলাকা স্থানীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিচিত। ট্রেন চলাচলের সময় যেকোনো দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে। স্থানীয় যাত্রীরা বলেন, “রাতের অন্ধকারে এই ধরনের দুর্ঘটনা আতঙ্কজনক। তবে রেলওয়ের দ্রুত উদ্ধার ও রিলিফ ব্যবস্থা প্রশংসনীয়।”
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের সময় ভৈরব বাজার জংশনে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হবে। এলাকা থেকে আসা সংকেত ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে যাতে লাইনের কোনো বগি লাইনচ্যুত হলে দ্রুত পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় যাত্রীরা নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেও, রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রেন চলাচলে বিলম্ব এড়িয়ে চলার জন্য যাত্রীদের সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর