আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বিক্ষোভকারীরা দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন এবং খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ রক্ষার দাবি জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমতলী উপজেলার চাওড়া মৌজার তুলাতলী এলাকায় অবস্থিত কালীবাড়ী খালটি শত বছরের পুরোনো এবং এটি চাওড়া ইউনিয়নের প্রধান পানি প্রবাহের মাধ্যম। এই খালের পানি ব্যবহার করে হাজার হাজার কৃষক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে আসছেন। অথচ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক সংলগ্ন ওই খালের একাংশের ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্থ নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের গাড়িচালক মোঃ সোহেল রাঢ়ী।
স্থানীয়রা জানান, গত ছয় বছর ওই জমি দখলে যাননি সোহেল রাঢ়ী। বুধবার সকালে তিনি সেখানে কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এ সময় সোহেল রাঢ়ী দাবি করেন, সরকার তার নামে জমি বন্দোবস্থ দিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে খালের পাড়ে বসবাসরত কয়েক শত পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
কালীবাড়ী খাল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান মোমেন আকন, জাকির হোসেন মিরাজ ও এইচএম রিয়াজ বলেন, এটি একটি প্রবাহমান খাল। এখানে বাঁধ দিলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে চাওড়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দ্রুত এই খালের জমি বন্দোবস্থ বাতিল করা জরুরি।
বিক্ষোভকারী খালেদা বেগম ও ফাতেমা বেগম বলেন, খালের দুই পাশে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার বসবাস করে। তারা এই খালের পানি গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করেন। খালে বাঁধ দেওয়া হলে শুকনা মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেবে এবং পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়বে।
আমতলী উপজেলার যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী জামান রাকিব বলেন, হাজার হাজার কৃষক পরিবারের স্বার্থ উপেক্ষা করে প্রবাহমান খাল বন্দোবস্থ দেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে মোঃ সোহেল রাঢ়ী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন তাকে তুলাতলী এলাকায় খানা করে দেন। সেই খানা অনুযায়ী তিনি ২৯ নং চাওড়া মৌজার ১২১৫ নং খতিয়ানের ১৫২৮, ২৩২৫ ও ২৩২৫ নং দাগে ৩০ শতাংশ জমির জন্য আবেদন করেন এবং সরকার তাকে বন্দোবস্থ দেয়। তিনি দাবি করেন, স্থানীয়রা তার শ্রমিকদের মারধর করেছে এবং নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ছয় বছর আগে সোহেল রাঢ়ীকে বন্দোবস্থ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। যদি দেখা যায় এতে স্থানীয় কৃষক ও খালের পানি প্রবাহে সমস্যা হচ্ছে, তবে বন্দোবস্থ বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
আকাশজমিন / আরআর