স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা–১৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতকরণ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভা মিরপুর কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা–১৪ আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরার পাশাপাশি আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেন। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা পরিচালনা, সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি। তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান। এছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সভায় অংশ নেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সভায় উপস্থিত প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেন। তিনি প্রচারণায় শালীনতা বজায় রাখা, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল প্রার্থীর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। আইন মেনে নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর থাকবে।”
প্রার্থীরা তাদের বক্তব্যে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি তার বক্তব্যে বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা আইন মেনে প্রচারণা চালাবো। সহিংসতা ও অনিয়মের কোনো স্থান নেই।” তিনি আরও বলেন, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক ইশতেহার তুলে ধরা হবে।
পুরো মতবিনিময় সভা অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌজন্য ও শ্রদ্ধাবোধ লক্ষ্য করা যায়, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সভা প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াবে এবং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আকাশজমিন / আরআর