ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

অসহায় মানুষের পাশে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:৪০ পিএম

একদিকে মেয়ের বিয়ের আয়োজন থমকে যাওয়া এক অসহায় মা, অন্যদিকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শয্যাশায়ী এক দিনমজুর—ভিন্ন দুই জীবনের গল্প হলেও সংকটে তাদের ভরসার জায়গা একটাই। মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার সিএন্ডবি এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগম নিজেই অসুস্থ। তাঁর স্বামী আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। চার মেয়ের সংসারে তিন মেয়ের বিয়ে কোনোভাবে সম্পন্ন হলেও ছোট মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে চরম অসহায়ত্বে পড়েন তিনি। ধার-দেনা করেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল নাছিমা বেগমের।

শেষ ভরসা হিসেবে আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি শোনার পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তাৎক্ষণিকভাবে এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন। এই সহায়তা পেয়ে নতুন করে সাহস ফিরে পান নাছিমা বেগম। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের পাশে দাঁড়ানোয় মেয়ের বিয়ের আয়োজন আবারও শুরু করতে পারছেন তিনি।

নাছিমা বেগম বলেন, “মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক হলেও টাকার অভাবে সব থেমে যাচ্ছিল। ডিসি স্যারের সাহায্য না পেলে কী করতাম জানি না।”

অন্যদিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মৈশামুড়া এলাকার দিনমজুর মোহাম্মদ ফরিদ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ফরিদ বাকশক্তিও হারিয়েছেন। একসময় দিনমজুরি করে চার সন্তানের সংসার চালালেও ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি ধার-দেনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

ফরিদের স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, স্বামীর চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। জেলা প্রশাসকের সহায়তা পাওয়ায় তারা আবারও বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী কিছুই করতে পারে না। সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। জেলা প্রশাসক স্যারের সহায়তাই এখন আমাদের বাঁচার ভরসা।”

ফরিদের মেয়ে ইসরাত আরা বলেন, “আব্বার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। স্যারের সাহায্যে আমরা আবার আশা পেলাম। ডিসি স্যার আসলেই একজন মানবিক ডিসি।”

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা একাধিক অসহায় মানুষ ও চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সামাজিক সংগঠনের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট শোনার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

ব্যস্ত প্রশাসনিক দায়িত্বের মাঝেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে বলে মত দিয়েছেন সহায়তা পাওয়া নাগরিকরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর