ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

বিসিবি পরিচালকের ফিক্সিং অভিযোগে তদন্ত শুরু


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১১:০৮ এএম

সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে ছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। টুর্নামেন্টজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হলেও এবার বিসিবির একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকু) প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবারের বিপিএলে ফিক্সিং প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই আকুর কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মিঠু বলেন, ফিক্সিং ইস্যুতে এবার কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেভাবে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম পরিচালিত হয়, বিপিএলেও ঠিক সেভাবেই কাজ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে বিসিবির একজন পরিচালকের ফোনালাপ শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ফিক্সিংয়ে সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা কোনোভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন কি না—তা নির্ধারণ করা তদন্তের বিষয়। এ কারণেই পুরো বিষয়টি আকুর প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

ইফতেখার রহমান মিঠু আরও বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লুকোচুরি বা আপসের সুযোগ নেই। বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। বিসিবির মোট ২৫ জন পরিচালক রয়েছেন এবং দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সবাই নির্দোষ—এই নীতিতেই তদন্ত এগোবে।

এই অভিযোগ ওঠার পর বিসিবির পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম তার সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের বিষয়ে মোখলেসুর রহমান শামীম জানান, একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পদত্যাগের অর্থ কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়।

ফিক্সিং অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিপিএলে সংঘটিত একটি অনিয়মের সঙ্গে বিসিবির এই পরিচালক জড়িত। সেই প্রতিবেদনের পরপরই বিষয়টি বিসিবির উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না। অ্যালেক্স মার্শালের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিপিএলে ফিক্সিং ইস্যু অতীতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এবারের টুর্নামেন্টে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে বিসিবি। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর