ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বিসিবি পরিচালকের ফিক্সিং অভিযোগে তদন্ত শুরু


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১১:০৮ এএম

সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে ছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। টুর্নামেন্টজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হলেও এবার বিসিবির একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকু) প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবারের বিপিএলে ফিক্সিং প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই আকুর কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মিঠু বলেন, ফিক্সিং ইস্যুতে এবার কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেভাবে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম পরিচালিত হয়, বিপিএলেও ঠিক সেভাবেই কাজ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে বিসিবির একজন পরিচালকের ফোনালাপ শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ফিক্সিংয়ে সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা কোনোভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন কি না—তা নির্ধারণ করা তদন্তের বিষয়। এ কারণেই পুরো বিষয়টি আকুর প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

ইফতেখার রহমান মিঠু আরও বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লুকোচুরি বা আপসের সুযোগ নেই। বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। বিসিবির মোট ২৫ জন পরিচালক রয়েছেন এবং দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সবাই নির্দোষ—এই নীতিতেই তদন্ত এগোবে।

এই অভিযোগ ওঠার পর বিসিবির পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম তার সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের বিষয়ে মোখলেসুর রহমান শামীম জানান, একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পদত্যাগের অর্থ কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়।

ফিক্সিং অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিপিএলে সংঘটিত একটি অনিয়মের সঙ্গে বিসিবির এই পরিচালক জড়িত। সেই প্রতিবেদনের পরপরই বিষয়টি বিসিবির উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না। অ্যালেক্স মার্শালের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিপিএলে ফিক্সিং ইস্যু অতীতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এবারের টুর্নামেন্টে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে বিসিবি। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর