দেশের বাজারে সোনার দাম টানা পাঁচবার বৃদ্ধির পর অবশেষে কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের সোনার দাম নেমে এসেছে দুই লাখ ৭১ হাজার টাকায়।
গতকাল পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, দাম কমানোর প্রক্রিয়া শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পিওর গোল্ড বা তেজাবি সোনার বাজারে দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামও পতনের মুখে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দাম নিরীক্ষণকারী ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে ৫ হাজার ২০০ ডলারে, যা গতকালের তুলনায় ৩৫০ ডলার কম।
দেশীয় বাজারে নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম হয়েছে দুই লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য দুই লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।
সোনার সঙ্গে রুপার দামেরও পতন হয়েছে। নতুন বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর কমে যাওয়া এবং আঞ্চলিক স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন দাম ক্রেতা ও সোনার ব্যবসায়ীদের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দাম কমার ফলে অনেক ক্রেতা স্বর্ণ কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে বিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণের চাহিদা থাকে। বাজুসের ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, বাজারে নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় আগামী সপ্তাহে ক্রেতাদের মধ্যে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, রুপা বাজারেও পতন ক্রমশ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির। স্থানীয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিনিয়োগকারীদেরও সুবিধা হচ্ছে। বাজুসের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামার প্রভাব দেশের বাজারে কিছুটা সীমিত থাকবে।
নির্ধারিত নতুন দামের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বাজুস বাজার পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দাম সমন্বয় করবে।