মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমরুল কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাকি তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
নিহত পাঁচজনের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন মহাদেবপুর উপজেলার নূরপুর এলাকার বিপুল পাহান (২৫) ও সঞ্জু রাও (৪৫)। অন্য তিনজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবুল কাসেম জানান, ডাম্প ট্রাকটি মহাদেবপুর থেকে পত্নীতলার নজিপুরের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে নজিপুর থেকে মহাদেবপুরের দিকে আসছিল একটি যাত্রীবাহী অটো ভ্যান। ভোরের দিকে পাঠকাঠি এলাকায় পৌঁছালে ডাম্প ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটো ভ্যানটিকে চাপা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। স্থানীয় লোকজনও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমরুল কায়েস বলেন, ভোর সাড়ে চারটার দিকে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ভোর পাঁচটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে সড়কটিতে ভারী যানবাহনের গতি বেশি থাকে। অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে, একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।