সরিষাবাড়ী(জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি শর্টগান ও দুই রাউন্ড গুলিসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটক যুবকের নাম আমিনুল ইসলাম (৩২)। তিনি সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং একই এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোররাতে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মীরপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বলারদিয়ার এলাকার আমিনুল ইসলামের বাড়ীতে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে বাড়ির গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি শর্টগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমিনুল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। অভিযান চলাকালে আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযান শেষে শনিবার সকালে আটক যুবক আমিনুল ইসলামকে উদ্ধারকৃত শর্টগান ও গুলিসহ সরিষাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে থানায় তাকে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাচ্চু মিয়া মুঠোফোনে জানান, বলারদিয়ার এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর অভিযানে একটি শর্টগান ও দুই রাউন্ড গুলিসহ একজন যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গভীর রাতে সেনাবাহিনীর অভিযানের খবর পেয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল তৈরি হয়। তবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে এবং কী উদ্দেশ্যে তা রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, সরিষাবাড়ী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।