সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 150
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। খাদ্য ও শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল অঞ্চলের অংশ হওয়ায় এ এলাকায় বোরো ধানই প্রধান ফসল হিসেবে বিবেচিত। শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা।
তাড়াশ উপজেলা কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। যদিও এখানে শাক-সবজি, সরিষা ও ভুট্টার চাষও হয়ে থাকে, তবে প্রধান ফসল ধান। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই কৃষকরা জমিতে আগাছা পরিষ্কার করে বোরো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। এখন সেই জমিতেই পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধানের চারা রোপণ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে চলতি মৌসুমে ব্যাপক আকারে বোরো ধান চাষ হচ্ছে। বৃহত্তর চলনবিলে এ মৌসুমে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের কার্যক্রম চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ও মাধাইনগর এলাকার বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা শীতের সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমিতে কাজ করছেন।
মাঠে মাঠে চলছে হালচাষ, মই টানা, সার প্রয়োগ, জমির আইল নির্মাণ, পানি সেচ, বীজতলা থেকে চারা তোলা ও ধান রোপণের কাজ। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও ধান লাগানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন। কর্মব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকরা অনেক সময় মাঠেই দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। এই দৃশ্য এখন তাড়াশসহ চলনবিল এলাকার মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে।
সগুনা ইউনিয়নের লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের কৃষক আফসার আলী জানান, তার ছয় বিঘা জমির মধ্যে চার বিঘায় ইতোমধ্যে বোরো ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। সরিষার জমি ছাড়া বাকি জমিতে আগাম জাতের ইরি-বোরো ধান রোপণ চলছে। তিনি বলেন, সরিষা ঘরে তোলার পর পুরোদমে বোরো ধান রোপণের কাজ শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাড়াশ উপজেলায় ২২ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এ এলাকায় সাধারণত ব্রিধান-২৮ ও ২৯ ছাড়াও উন্নত জাতের ৫০, ৫৮, ৬৪, ৮১, ৮৪, ৮৯, ৯২, ৯৬ এবং বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা বোরো ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, সরকারি উদ্যোগে এ মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৩শ জন কৃষককে ধানবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।