কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচিত হলে ঋণ খেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম তৈরি করবেন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই মন্তব্য করেন, যখন কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পেতে লিভ টু আপিল খারিজ হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিদের জন্য এটি একটি বার্তা। নির্বাচিত হলে তাদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব।
এর আগে, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা লিভ টু আপিল আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন। এর ফলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ ইসিতে আপিল করে অভিযোগ করেছিলেন যে বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে ১৭ জানুয়ারি শুনানি শেষে ইসি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে, মঞ্জুরুল মুন্সী নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। তবে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিএনপি, ১১ দলীয় জোট এবং অন্যান্য প্রার্থীরা প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বাদ পড়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী লড়াইতে সুবিধা পেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার এই পরিস্থিতি নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় ভোটাররা এখন মূলত দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ঋণখেলাপিদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নির্বাচকদের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে পারে।
এই ঘটনার পর কুমিল্লা-৪ আসনের ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল এবং ভোটার উপস্থিতি এই মুহূর্তে অনিশ্চিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনা দেশজুড়ে ঋণখেলাপিদের শাস্তি ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রার্থী যোগ্যতার বিষয়টি জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আকাশজমিন / আরআর